ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্যে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে ওষুধ সরবরাহ

যুক্তরাজ্যে ওষুধের ঘাটতি চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর পেছনে ব্রেক্সিটকে মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাজ্যে ওষুধের ঘাটতি চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর পেছনে ব্রেক্সিটকে মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা। ব্রেক্সিটের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত ঘটায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে এপিলেপসি ও সিস্টিক ফাইব্রোসিসের মতো রোগীদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা মন্ত্রণালয়ের (ডিএইচএসসি) বরাতে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ওষুধ কোম্পানিগুলো ১ হাজার ৯৩৮টি সরবরাহ বিঘ্নের রিপোর্ট করেছে, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশ্বব্যাপী ওষুধের ঘাটতি একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্য ইউরোপের অন্যান্য অংশের তুলনায় সংকটজনক পরিস্থিতির"মুখোমুখি হচ্ছে।

নাফিল্ড ট্রাস্টের নীতি বিশ্লেষক ও এর ব্রেক্সিট প্রোগ্রামের প্রধান মার্ক ডায়ান বলেন, ‘‌ওষুধের এ ঘাটতির ফলে মানুষ এরই মধ্যে মৃগী রোগ ও সিস্টিক ফাইব্রোসিসের মতো রোগের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক যে এটি তৃতীয় বছরেও সংকট ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে তুলছে।’ জি সেভেনভুক্ত দেশগুলো থেকেও আমদানি সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে থিংকট্যাংকটি।

ইইউ গণভোটের আগের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে নগদ অর্থে ওষুধ আমদানি ২০ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের ওষুধ রফতানিও কমেছে। ইইউভুক্ত ২৭ দেশের পাশাপাশি নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও লিচটেনস্টাইনের সঙ্গেও সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। ওষুধ সরবরাহ শৃঙ্খলগুলোর যুক্তরাজ্য থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয় এ প্রতিবেদন।

তবে ডিএইচএসসি দাবি করছে, মজুদ বাড়াতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি তারা আমদানি নিয়মাবলি সহজ করার পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাজ্যে আরো ওষুধ, ডায়াগনস্টিক ও চিকিৎসা প্রযুক্তি তৈরিতে ৫২ কোটি ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করছে তারা। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ওষুধ সরবরাহ চেইন সুরক্ষিত করতে না পারলে এ সংকট আরো তীব্র হয়ে উঠবে।

আরও